কে আমি কে তুমি, কোথা হতে তুমি বল কথা।
দেহ কারি ছন্দে চলে মহানন্দে, ভেসে যায় ওগো যথা তথা।।
ঘুমিয়ে থাকি যখনি আমি,
তুমি কোথা যাও ওগো প্রাণ স্বামী।
আমার অবয়বে পাই গো তোমাকে, না বুঝি আমরা কে কোথা।।
নাহি বুঝি প্রভেদ স্বপন মাঝারে,
দুঃখ যদি দেয় কেহ আমারে।
দুঃখ পাই পুনঃ আনন্দে ভাসি, কিছু যদি পাই তথা।।
নিরাকার হতে এসে ছিলে তুমি,
রূপেতে পরিয়ে রূপ আবরণী।
দেহেতে হইয়া প্রাণ সঞ্চারিণী, লুকাইয়া বল রইলে কোথা।।
বুঝিলাম এবে এই দেহ নকল,
তুমি চলে যাও হইলে বিকল।
আসল রূপেতে তুমি স্বপন মাঝারে, কও কথা তুমি পাও ব্যথা।।
সফি এই সব বুঝিতে না’রিয়া,
ডাকিতেছে শুধু সজিদায় পড়িয়া।
কে কারে সজিদা করিল ভাবিয়া, ইন্নালিল্লাহ্ পড়ে শেষ যথা।।
ভাণ্ডারে ভাণ্ডারী আছে রূপ ধরি,
দেখিলে পাইব রূপ মনোহরি।
নিজেরে চিনিয়া কর তাবেদারী, নৈরূপ নগরে রেখে মাথা।।