বাবা তোমার চরণে

বাবা তোমার চরণে, সজল নয়নে, এই দীনহীনে করি বর্ণনা।। দেখা দিল দারুণ কলি, পাপে সংসার গেল জ্বলি, তবু কেবল মিথ্যা বলি আখের জমানা।। মুসলমান বাদশা জাত, খাইতে পায়না পান্তা ভাত, ঘরে ঘরে ছিল ভাত দয়াল রব্বানা।। কলির কালে পাপের জোর, ঘরে ঘরে সুদ খোর, গৃহস্থ লোক দেনায় ভোর ঘুমে ধরে না।। মহাজনের সুদ চর্তি, গৃহস্থের […]

বাবা তোমার চরণে, সজল নয়নে,
এই দীনহীনে করি বর্ণনা।।

দেখা দিল দারুণ কলি, পাপে সংসার গেল জ্বলি,
তবু কেবল মিথ্যা বলি আখের জমানা।।

মুসলমান বাদশা জাত, খাইতে পায়না পান্তা ভাত,
ঘরে ঘরে ছিল ভাত দয়াল রব্বানা।।

কলির কালে পাপের জোর, ঘরে ঘরে সুদ খোর,
গৃহস্থ লোক দেনায় ভোর ঘুমে ধরে না।।

মহাজনের সুদ চর্তি, গৃহস্থের নাই ফুর্তি,
ব্যবসাতে পরে ঘার্তি, উপায় বলনা।।

বেক্কল মুরুক্ষ পাইয়া, মহাজনে সুদ নেয় দোহাইয়া,
জান বাঁচিল আলু খাইয়া, অন্ন মিলে না।।

বারো হাতে গুতা গুতি, গৃহস্থের নাই উন্নতি,
ধনীর বাড়ি হয় ডাকাতি, দর্তি মিলে না।।

নাল্যার টাকা গেল চইল্যা, গৃহস্থের হাত খাইল্যা,
মহাজন দেখলে উঠে জ্বইল্যা, ক্রোধ থামেনা।।

মহাজনের দেনা পাওনা, দিতে চায় না কোন জনা,
সম্পত্তি করে বিনামা, ঠগের বাসনা।।

কোরান পড় মাথা লার, না বুঝিয়া গিলাপ মার,
মাইনি কৈরা যাওনা দার, কষ্টে রবেনা।।

জমিনে বুনিয়া ধান, কররে ভাণ্ডারী গান,
কাদির গণি দয়াবান, কারে ঠগায় না।।

সৎপথে চল ভাই, মিথ্যায় উন্নতি নাই,
আয় বুঝিয়া ব্যয় করা চাই, কিসের ভাবনা।।

আবদুল্লার গজল গাও, সুদি কর্জ ক্ষেন্ত পাও,
পরের টাকায় নাম বারাও, ভিত্তি রবেনা।।

সালিশের কোটে যাও, কিছু দিয়া কিস্তি লও,
মুক্ত হৈয়া সুখে খাও, ভয় রবে না।।

লেখক: আব্দুল্লাহ বাঞ্ছারামপুরী