প্রিয়ে রঙ্গিলারে নানারূপ দেখা দিয়ে

প্রিয়ে রঙ্গিলারে, নানারূপ দেখা দিয়ে মজাইলারে।। তুমি গুণাধার প্রিয়ে তুমি গুণাধার। গুপ্ত ব্যক্ত দুই মতে হৈলা প্রচার।। রূপে গুণে প্রিয়ে মোর যেন এক সিন্ধু। ত্রিলক্ষ ভুবন তাঁর মাত্র এক বিন্ধু।। নিরাকার একেশ্বর ছিলা প্রিয়ে ধন। না আছিল ত্রিভুবন না ছিল গগন।। রূপের এমন রীতি হৈলে রূপবতী। প্রেমিক বিহনে কভু না ধরয়ে ধৃতি।। সুন্দর পুরেতে তিনি […]

প্রিয়ে রঙ্গিলারে,
নানারূপ দেখা দিয়ে মজাইলারে।।

তুমি গুণাধার প্রিয়ে তুমি গুণাধার।
গুপ্ত ব্যক্ত দুই মতে হৈলা প্রচার।।

রূপে গুণে প্রিয়ে মোর যেন এক সিন্ধু।
ত্রিলক্ষ ভুবন তাঁর মাত্র এক বিন্ধু।।

নিরাকার একেশ্বর ছিলা প্রিয়ে ধন।
না আছিল ত্রিভুবন না ছিল গগন।।

রূপের এমন রীতি হৈলে রূপবতী।
প্রেমিক বিহনে কভু না ধরয়ে ধৃতি।।

সুন্দর পুরেতে তিনি মনোহর ছিলা।
সাজি বিরাজিতে রূপে দর্পণে ইচ্ছিলা।।

নানা গুণে রূপার্ণবে তরঙ্গ করিলা।
প্রেমের হিল্লোলে কত বিম্ব প্রকাশিলা।।

আপ্তরূপ হেরিবারে মনেতে ইচ্ছিলা।
আপ্তরূপ প্রচারিয়ে দর্পণ করিলা।।

গুপ্ত ব্যক্ত ভাল মন্দ প্রেমের কারণ।
নিজ গুণে প্রিয় ধনে করিলা সৃজন।।

আর্শ কুর্ছি লৌহ আর ধরণী গগণ।
ত্রিভুবনে সর্ব দ্রব্য প্রিয়ার দর্পণ।।

এসব সৃজিলা প্রিয় হই প্রেমে বশ।
কিন্তু না পাইলে তাতে পুরা প্রেম রস।।

পুনঃ সর্ব গুণে সেই রসিক রঙ্গিলা।
আপ্ত রূপের সাগরে তরঙ্গ করিলা।।

তবে প্রিয়ে নিজ মহা ক্ষমতার বলে।
মানব আঁকারে সর্ব গুণে বিরাজিলে।।

মানব কি রসিক কি করিব বর্ণন।
সর্ব সৃষ্টি থাকি সেই উজ্জ্বল দর্পণ।।

সে প্রিয়ার মর্ম ভেদ প্রিয়া তাঁর ভেদ।
সে বিহনে না পুরয়ে প্রিয়া প্রেম খেদ।।

নির্মল দর্পণ সৃজি মানব আঁকার।
প্রকাশিলা তাঁর প্রেমে মহিমা অপার।।

দর্পণ মাঝারে যবে হৈলা বিরাজিত।
দর্পণের ছলে আপে হৈলা লুকিত।।

দর্পণী কে এথা হৈল কে হৈল দর্পণ।
কিরণের আঁড়ে ছলে লুকিল তপন।।

আপ্তরূপ প্রচারিয়ে আপে পলাইলা।
গুপ্তে ব্যক্তে দুই মতে দেখাইলা লীলা।।

মানব নির্মল আর্শী করিয়ে প্রধান।
লৌলাক ভূষণে তাঁর বাড়াইলা মান।।

সাজাই বিরাজি সেই দর্পণ মাঝার।
দেবগণে দিলা মান ছজিদা তাঁহার।।

কি কর মকবুল তুমি মানব বর্ণনা।
অহরহ কর মাত্র মাওলানা ভজনা।।

লেখক: আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী

প্রিয়ে রঙ্গিলারে নানারূপ দেখা দিয়ে